মনে আছে ক্লাস সেভেনে থাকতে আমার প্রয়াত শিক্ষক এমদাদুল হক স্যারের হাতে কি মাইরটাই খাইছিলাম! ফাইজলামি মার্কা একটা প্রশ্ন করে…. বাংলা ব্যকরন ক্লাসে আলোচ্য বিষয় ছিল ঘোড়ার ডাক = হ্রেষা! এইডাকটার প্রচলন করছিল শেরশাহ! আমি অতি পান্ডিত্যের ভাব নিয়া প্রশ্ন করছিলাম স্যার… ঘোড়ারা কি এর আগে ডাকতে পারতো না? স্যার কি বুঝছিলেন জানি না… ধুমাইয়া পিটাইছে… (প্রসংগত বলে রাখি, আমার জীবনের অনেক ভাল কিছুর প্রভাব এই শিক্ষকের অবদান, আমার বিচ্ছিরি হাতের লেখাটা সভ্যসমাজে চলনসই করে যথাসম্ভব সুন্দর করার অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন আমার এই অকাল প্রয়াত শিক্ষিক! এখনো কাগজে লিখার সময় স্যারের কথা মনে পরে। স্যার বেহেস্তে বসেই আমার সালাম নিবেন, আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি প্রশ্ন করেই সমাজ বদলাইতে চাই!) যাই হোক আলোচ্য মূল বিষয় এইটা না… আজকে আমার আলোচনার আসলে কোন বিষয় নাই, আছে একটা প্রশ্ন! আবারো প্রশ্ন! করতে ডর লাগতাছে! তবু করি, আচ্ছা বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসক, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালী ১১ সেক্টর ও জেড ফোর্সের কমান্ডার জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ না করলে কি আমাদের পূর্বপুরুষরা স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করতেন না? ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষন, ”এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” এই ঘোষনাটাই যথেষ্ট ছিল না?
ঘোড়ার ডাকের প্রচলনের প্রচলিত অর্থ কিন্তু ডাক ব্যবস্থা, আমরা অতি বেশি জ্ঞানীরা ঘোড়ার ডাক বলতে ঘোড়ার গলার স্বর মনে করে প্যাচ লাগায়া দিছি! ব্যাপারটা এই রকম, What মানে কি? এইখানেও বিষয়টা এইরকমই…. জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার পাঠক, ঘোষক না… তারে পাঠক হিসেবে শ্রদ্ধা করতে আমার দ্বিধা নাই… ওইসময় সাহস করে ঘোষনা পাঠ করার জন্যও লোকলাগে… জিয়া রহমান ঘোষনা পাঠ করার আগ পর্যন্ত কেউ তারে চিনতোই না, অখ্যাত থেকে বিখ্যাত হয়েছেন ওই ঘোষনা পাঠ করেই…
স্বাধীনতাযুদ্ধের সূচনা পর্বে গাজীপুরের জয়দেবপুরে সংঘটিত হয় পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ গাজীপুরের জয়দেবপুরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালী জাতি সর্ব প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। তখন দেশব্যাপী শ্লোগান উঠেছিল “জয়দেবপুরের পথ ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর”। তারমানে ঘোষনাপাঠ না করলেও ৭ই মার্চের পর থেকে আমরা মানসিকভাবেই প্রস্তুত ছিলাম স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য। কিন্তু এখন কথাবার্তা এমন ভাবে বলা হয়, মনে হয় জিয়া ঘোষনাপত্র পাঠ না করলে স্বাধীণতার যু্দ্ধটাই শুরু হইতো না। কিন্তু এটা আমি বিশ্বাস করি ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর কৌশলী ভাষনে আধপেটা খাওয়া বাঙ্গালীর বুঝতে কষ্ট হয় নাই, ওইটা ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষনা…. এবং তারা মানুষিকভাবে প্রস্তুত ছিল।
কি জানি বাপু…. আমারতো মনে লয় ঘটনাটা কিঞ্চিত ঘোড়ার ডাকের মতন, ভাবখান এমন শেরশাহ হ্রেষা প্রচলন না করলে, ঘোড়ারা ডাকতেই পরতো না, ওদের নিজেদের ভাব বিনিময়ই করতে পারতো না….. ধুর ইদানিং আমি খাই কম, বুঝি বেশি… ধুত্তেরি!
