মেজাজটা খিচড়াইয়া গেল। গতকালই একবন্ধুর সাথে বলছিলাম আমার আশংকার কথা, যা আশংকা করছিলাম ঠিক তাই, ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়ায় টর্নেডোতে প্রচুর ঘরবাড়ি, মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হইছে। সরকারি হিসেবে ২০ জন মানুষ মারা গেছে, এই খবর আমরা সবাই জানি, কিন্তু আমাকে একজন ইনবক্সে মোটামুটি জোর জোবর দস্তি করছিল একটা লিংকে যাবার জন্য, গেলাম… সব কিছু উইড়া গেছে পবিত্র কোরআন উড়ে নাই, অক্ষত অবস্থায় আছে। আপনাদের বুঝার জন্য দিলাম
জিজ্ঞেস করলাম, কেমনে বুঝলা এইটা টনের্ডোর ঘটনা? উত্তরে বললো, আপনার মতো অবিশ্বাসীদের জন্য জাহান্নাম!
আমি: জান্নাত জাহান্নাম আপনি ঠিক করবেন? এইটা বেদাত….
জনৈক: ইসলাম শিখাইছ না, শু**** বাচ্চা
আমি: ইসলাম শিখাবার আমি কেউ না, খালি প্রশ্ন করছি… বেহেস্তের টিকিট টা কি আপনিই দেন?
জনৈক: তুই কোরআনের অক্ষত থাকার বিষয়টা অবিশ্বাস করলি ক্যান?
আমি: মাগরিবের ওয়াক্ত যায়, ভাই নামাজ পড়ছেন?
জনৈক: তোর কইতে হবে?
আমি: না ওয়াক্ত যায় চলে… এইজন্য বলছিলাম
জনৈক: তুইতো নামাজ পড়োস না… তুই নামাজের হিসাব চাস ক্যান?
আমি: ভাই দেখানোর/বলার জন্য আমি ইবাদত করি না, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য আমি ইবাদত করি, মাগরিবের ওয়াক্তের নামাজ পড়েই আপনার সাথে চ্যাটে বসছি। এইজন্য আপনার সাথে চ্যাট করতে দেরি হইছে। কিন্তু ওইসময়টাতে দেখলাম আপনার অনেকগুলো ম্যাসেজ… তারমানে আপনি নামাজের সময় চ্যাটিং এ ব্যস্ত ছিলেন আর আমি ছিলাম নামাজে, বিষয়টা ফানি না আপনি ঠিক করছেন আমার স্বর্গ-নরক!
জনৈক: মিছা কথা, তুই নামাজ পরচোত এইটা বিশ্বাস করতে হইলে আমার আবার জন্ম নিতে হবে।
আমি: ওইটাই করেন, আবার জন্ম নেন শুদ্ধ হয়ে আসেন… এই জন্মটা আপনার বৃথা.. আজাইরা.. যান এখনো ওয়াক্ত আছে নামাজটা পড়ে আসেন, আমি অপেক্ষায় আছি। আপনারে আজকে মুমিন বানাইয়া তারপর ঘুমাইতে যামু… আর শুনেন একটা গালি দিছেন… এইটা বললে শুনছি মানুষ নাকি নাপাক হয়ে যায়… অতএব গোছল করে তারপর নামাজে দাড়াবেন…
জনৈক: তোর কাছথেকে আমার মাশালা নিতে হেইবো না
আমি: শুনেন ভাই, কোরআন শরীফ আল্লাহ কিতাব… এইটার প্রতিটি সুরা, আয়াতের রক্ষক আল্লাহ, আপনি আমি না। আর এইযে লিংকটা দিলেন, এইটাতে কি প্রমান হয়! আল্লাহর কি ঠেকা পড়ছে, নিজের অস্তিত জানান দেয়ার জন্য আমাদেরকে তার প্রমান দিতে হবে? আচ্ছা শিবির/জামাত যখন কিছুদিন আগে মানুষের বাড়ি ঘরে আগুন দিছে, তখনও কোরআন পুড়াইছে, কই ওইখানেতো কোরআন শরীফ পুইড়া ছাই হয়ে গেছে, তারমানে কি ওইখানে (আসতাগফিরুল্লাহ) আল্লাহ নজর দেয় নাই? এইসব করে করে ইসলামের আরো অপমান হয়। এইগুলি ইসলামের সাথে যায় না, এইসব বলা, করা ঠিক না!
জনৈক: তোর সাথে আর কি কমু! নাস্তিক..
আমি: একটু আগে নামাজ পড়ে আসলাম, আজ ছুটির দিন পাচ ওয়াক্তের ৪ ওয়াক্ত পড়েছি, এরপরও নাস্তিক!
জনৈক: তুই কইলেই আমি বিশ্বাস করমু?
আমি: আপনি অনেকক্ষন ধরে তুই তোকারি করতেছেন ভাই, যাইহোক নামাজটা আমি আপনার জন্য পড়ি না যে, আপনার কাছে প্রমান হাজির করতে হবে। যার পড়ছি তিনি কবুল করলেই আমি খুশি…
জনৈক: তুই একটা বেজন্মা…
আমি: যে যেমন সে অন্যকে তাই ভাবে… আমার কাছে প্রমান আছে, মরহুম ছিদ্দিক উল্লাহ (মুক্তিযোদ্ধা) আমার বাবা.. আপনার মায়ের কাছে প্রমান চান গিয়া যান… যতসব বালছাল, আবাল… বিচার বুদ্ধি বিবেচনা কিছু আছে আপনার? ছাগল!!!
জনৈক: ধুর কু*** বাচ্চা… (সাইন আউট)
এখন আপনারাই বলেন এইসব ছাগু পাগুরা যদি এইগুলা ছড়ায়… আর ভিন্ন ধর্মের লোকজন যদি তাদেরটা ছড়ায় তাইলে আমরা সাধারন লোকজন কোনটা বিশ্বাস করমু, ওইদিন কই জানি দেখলাম, কোথায় কোন পেয়ারার মধ্যে, মাংসের মধ্যে, শিশুর কপালে আল্লাহু লেখা! ভাইরে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কি ঠেকা পড়ছে? নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে হবে! এই উজবুক গুলি নিয়া কই যামু! আফসোস এইগুলি আমাদের আশেপাশেই ঘুরে বেড়ায়, আমাদের সাথেই খায় দায়… এদের জন্য সত্যি আমার করুনা…. আল্লাহ এদের হেফাজত করো, সত্যের পথ দেখাও
আচ্ছা ২০ মানুষ আর এতযে ঘরবাড়ি পুড়লো, এইগুলি ওদের চোখে পরে না… এই মুহূর্তে ওদের সাহায্য দরকার! এইটা আবালগুলা কেন বুঝে না?
এই বিষয়গুলা সবখানেই আছে! কিন্ত একদিনে সম্ভব না এদের মানসিকতার পরিবর্তন আনা, অবশ্যই আমরা কোরআন এবং হাদিসের লিখিত বা মুদ্রিত কপিকে সম্মান করবো। সেইসাথে অন্য ধর্ম গ্রন্থকেও সম্মান করবো, নিজেরটা বুকে অন্যেরটা পা দিয়ে সরিয়ে রাখবো তা বিবেচকের কাজ হবে না। প্রসঙ্গত একটা কথা বলি, আমার পরিচিত একভাইয়ের কাছ থেকে শোনা, কোন এক বায়িং হাইজের, একটা পিকআপ গাড়ি ছিল! চাইনিজ ভাষায় কিসব জানি লেখা, গাড়িটা বিদেশী এইটা বুঝার জন্য গাড়ির মালিক ওইটা আর উঠায় নাই, একদিন বায়ার আসলো গাড়িটার গায়ে লেখাটা পড়ে তিনি প্রশ্ন করছে, তোমরা সিটি কর্পোরেশনের ময়লা পরিষ্কার করো? পরে জানা গেল, ওইখানে লেখা, সিটিকর্পোরেশনের ময়লার গাড়ি! বুঝেন তাইলে…
পৃথিবীর প্রতিটি ভাষায় নিশ্চয়িই গালি আছে? এখন প্রতিটি দেশে আমাদের দেশের মতো ম্যাগাজিন আছে। পাকিস্তান/আফগানিস্থানের আরবি হরফে উর্দু ভাষায় নিশ্চয়ই ম্যাগাজিন হয়! তাইলে ওই আরবি হরফে উর্দু ভাষায় ম্যাগাজিন যদি পর্নো ম্যাগাজিন হয়, ওইটাও আমি বুকে জড়াইয়া রাখমু? হায কপাল, এইজন্যই আমি আরবীতে কোরআন শরীফ তেলওয়াত করার পাশাপাশি সময় নিয়ে বাংলা অর্থসহ পড়ি, আল্লাহ তালা কি বার্তা মুহাম্মদ (সা:) এর মাধ্যমে আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন, তা পরিষ্কার করে বুঝার চেষ্টা করি।
নবী করিম (স:) বিদায় হজ্বের সময় বলে গেছেন, “তোমরা ধর্ম নিয়া বাড়াবাড়ি করিও না, জোর জোবর দস্তি করিও না!”
