একটু সময় হবে? একটু কি পড়বেন? মর্মার্থটা একটু কি বুঝার চেষ্টা করবেন? কিছু মনে করবেন না! পোলাডা আমি বেশি বুঝি! বেশি বুঝি বইলাই… আমি আসলে একটা বোকা! বারে বারে প্রেমে পরি! কে একজন লিখেছিলেন, “মারে তোর, সম্ব্রমহানির বদলা নিবো বলেই, আমি আবার যদ্ধে যাব!” এই কথাটার প্রেমে আমি পড়েছি! “শাহবাগের এই ভিখারির কথা মনে আছে? ভিক্ষার টাকায় কিছু মুড়ি, গুঁড় দিয়েছিল যারা স্লোগান দিচ্ছিলো তাদের? আমার মনে হয় উনার দেশপ্রেমের কাছে খালেদা জিয়া নখের সমানও হবে না। এরা যদি নাস্তিক হয় , জান্নাতে কারা যাবে জানতে মনে চায়।” এই ষ্ট্যাটাসের প্রেমে আমি পড়েছি অসংখ্য বার আমি প্রেমে পরি প্রতিদিন, মাঝে মাঝে আমি নিজের প্রেমেও পরি!
ছোট বেলায় সুন্নাতে খাৎনা করেছিল, সত্যি বলছি মুসলমান আমি নিজের ইচ্ছায় হয়নি! নুনু কাটালেই মুসলমান হয় না! মুসলমান হতে হলে ইমান আনতে হয়। সেই ইমান আমি এনেছি ক্লাস নাইনে উঠে। মদিনার সনদ পরে, এত সুন্দর একটা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা, বিশ্বাস না করে পার যায়? বিশ্বাসটা আরো জোড়ালো হতে শুরু করে বাংলায় অর্থসহ কোরআন শরীফ পড়ে। এরপর একাধারে পড়তেই থাকলাম বোখারী শরীফ, তিরমিজি শরীফ, ইঞ্জিল শরীফ। আমি প্রেমে পরেছি ইসলামের। এ বড়ই কঠিন প্রেম। এই কথা গুলো কেন বলছি? আমার মনে হয় না জামাত-শিবির ইসলামের বিধিবিধান পড়ছে, পড়লেও নিজে অর্থসহ পড়ে নাই। কিংবা যার কাছ থেকে পাঠ নিছে, সে ভূল ব্যাখ্যা দিছে, তাদের ভুল বুঝানো হয়েছে।
আমি মুসলমান, আমি আল্লাহকে বিশ্বাস করি, মুহাম্মদ (সাঃ) কে শেষ নবী ও প্রেরিত রাসূল বলে মানি। যদিও একথা বলে বেড়ানোর কিছু আছে বলে আমার মনে হয়না। আমি সব ওয়াক্ত না হলেও নামাজ পড়ি, যে কারনে একজন তরুন এম্নি এম্নি রোজা ভাঙ্গে অজ্ঞতায়! আমি সেই কারনে রোজা ভাঙ্গি এমনিতেই, আমি যাকাত ফেৎরা দেই, আমিও বিপদে আপদে দোয় ইউনূস পড়ি, ছদকা দেয়ার মানত করি, কোন কিছু হারিয়ে গেলে ইন্নাহ লিল্লাহ পড়তে পড়তে খুজে বেড়াই, সামর্থমত কোরবানী দেই, ধর্মীও বিধি বিধান মেনে চলার চেষ্টা করি, সময় ও সুযোগ পেলে হজ্বে যাবারও ইচ্ছা রাখি। সেই সাথে, আমি ধর্মান্ধ নই।
আমি বুকের ভিতর ধারণ করছি এক বিশাল লাল সবুজ পতাকা, অনেক রক্তে, মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে কেনা মানচিত্র। আমাকে যদি কেউ নাস্তিক বা মুরতাদ বলে, আমি তাদেরকে স্পষ্ট জানাতে চাই আমার ধর্ম পরিচয় আমি কারো কাছে বন্ধক রাখিনি, কারো কাছে আমি ধর্ম বিশ্বাসের সার্টিফিকেট আশা করিনা। এমন যে বা যারা বলছে, আমি তাদের ধর্ম বিশ্বাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করলাম, তাদের বিকৃত মানসিকতার তীব্র নিন্দা করলাম, সেই সাথে মনে মনে প্রার্থনা করি আল্লাহ তাদের হেদায়েত দিন। এসব ধর্ম ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আমরা সোনার বাংলাদেশকে মুক্ত করবোই। জয় আমাদের হবেই। জয় চেতনা, জয় জনতা, জয় বাংলা।
আমি সব সময়ই বলে আসছি এবং আমার ফেসবুক প্রোফাইলে স্পট করেই বলেছি, আমি মুসলমান, আস্তিক, সাম্যবাদী এবং অসম্প্রদায়িক। আমি বিশ্বাস করি, “আল্লাহ এক অদ্বিতীয়, তার কোন শরীক নাই, হযরত মুহাম্মদ (স:) তার প্রেরিত সর্বশেষ নবী ও রাসুল” এ বিশ্বাসে কোন খাদ নাই। কিন্তু আমি একজন একজন হিন্দু মায়ের বুকের দুধ খেয়ে বড় হয়েছি, আমার মা তখন অসুস্থ ছিলেন। আসে পাসে তখন দুগ্ধদান করার মতো মা পাওয়া যায়নি, আমার মাসি নিজের ছেলে অমরের দুধের ভাগ দিয়ে, আমার শরীরে পুষ্টি দিয়েছেন। চাইলে আমার মাসি আমাকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী হিসেবে তৈবি করে নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেন নাই। অতন্ত সচেতনতার সাথে, তিনি আমার প্রতিপালন করেছেন। আমার এখনও মনে আছে সন্ধ্যা পুজার সময় মাসি আমাকে আলাদা করে বসিয়ে রেখে, পুজো দিতেন। আমি শিশুসুলভভাবে মাঝে মাঝে পুজা দিতে চাইতাম উনার দেখা দেখি, কিন্তু মাসী বারন করতেন। আমার মাকে, আমার বোনকে তিনি এ বিষয়ে ওয়াকিবহল করেছিলেন। তারা আমাকে নামাজ রোজা শুরু শিখিয়েছেন। আমি একথাগুলো কেন বলছি? কারন শিবির-জামাত সাম্প্রদায়িক অপশক্তি যেভাবে ধর্মের নামে ভন্ডামী করছে তা খুবই ইসলাম বিরোধী, ইসমাল অবমাননা। আল্লাহতালা নামাজের মধ্যেই স্পস্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন সাম্যবাদের, নামাজের কাতারে ধনী গরীবের কোন পার্থক্য নাই। সাম্যবাদী চিন্তাতো এইটাই! আমি চাই সামাজিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে ধনীগরীবের সমানসুযোগ। পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান হযরত মুহাম্মদ (স:) এর অনুমোতি ও পরামর্শে আল্লাহর হুকুমে মদিনার সনদের ৪৭টি ধারা প্রতিটিতে রয়েছে সাম্যবাদ আর অসাম্প্রদায়িকতা (http://bn.wikipedia.org/wiki/) কিন্তু জামাত-শিবির এর প্রতিটা শব্দকে, বাক্যকে অমান্য করছে প্রতিনিয়ত! আফসোস এরা কোমলমতি শিশুদের কিশোরকন্ঠ পাঠ করিয়ে করিয়ে শিবিরের সাথে সম্পৃক্ত করে, কিন্তু প্রকৃত ইসলামের কিছুই শিখায় নাই। এরা তৈরি হচ্ছে জঙ্গী অমানুষ জানোয়ার হিসেবে। এদের আচরন হয় হিংস্র হায়নার মতো।
১. কোরআনে কোথাও ধর্মত্যাগীকে হত্যা করতে হবে এমন নির্দেশ নেই ।
২. লা ইকরাহা ফিন দ্বীন অর্থাৎ ধর্মে জোরজবরদস্তি নেই (বাকারা)
৩. ইচ্ছা হলে বিশ্বাস করুক ,না হলে অস্বীকার করুক ।(কাহার)
৪. ইমান আনার জন্য কাউকে বাধ্য করা যায় না (ইউনুস)
৫. রাসূল একজন উপদেষ্টা মাত্র (আরাফ)
