জানতে চান আসলেই কি হচ্ছে প্রজন্ম চত্বরে? প্রজন্ম চত্বরের কাহিনী ফাস করমু আজকে, আমি প্রথম থেকেই প্রজন্ম চত্বরের এই সমোবেশের সাথে একাত্ণতা ঘোষনা করেছি, যেহেতু আমি চাই পোষা একজন অনলাইন এ্যাকটিভসদের একজন, সেহেতু মোটামুটি সমাবেশ কারীদের সাথে আমার যোগাযোগ হচ্ছে নিয়মিত… যাইহোক ত্যানা না পেচাইয়া আসল কাম শুরু করি:

আমি যখনই কথা বলি কোন না কোন গল্প বা কৌতুক দিয়া শুরু করি, যারা আমার সাথে মিশেছেন, আমার আলোচনা শুনেছেন তারা নিশ্চয়ই আমার এ অভ্যাস জানেন, আজও তাই করবো, আসলেই প্রজন্ম চত্বরে কি হচ্ছে, গল্পে গল্পে জানুন:

এক: একবার এক গ্রামে বিরাট আয়োজনে মহাধুমধাম করে জেহবত হচ্ছিল, অনেক লোক সমাগম, গ্রাম শুদ্ধ লোকের দাওয়াত, অনেক আয়োজন নিয়া রান্না বান্না হচ্ছে, কিছু নেড়ী কুকুরের দল দুর থেকে সেটা ভালভাবে লক্ষ্য করছিল, আর মোক্ষম সুযোগের অপেক্ষায় ছিল কখন খাবার রান্না শেষ হবে, তারাও অনেকদির পর ঝুটামুটা হলেও ভালমন্দ কিছু খেতে পাবে। ধৈয্য ধরে তারা অপেক্ষা করতে লাগলো, কিন্তু যেই বাবুচিরা রান্না করছিল, তারা খুব ধীরে সুস্থে, যত্ন নিয়ে রান্না করছিল, ফলে একটু দেরী হচ্ছিল সাভাবিক ভাবেই, তাদের ইচ্ছা দাওয়াতীদের ভালভাবে তৃপ্তি ভরে খাওয়াবে, কোন দূনাম যেন না হয়। যাইহোক কুকুর দলের ভিতরেও সান্ডা লিডার টাইপের থাকে আপনারা ভালভাবেই জানেন… সে দলের ভিতর হ্যাবলা কেবলা টাইপের একটারে বলল, যাতো দেখে আয় কি অবস্থা? সে গেল, কিন্তু বাবুচি বেজায় বেরসিক, বিরক্তি নিয়া সে দিল গরম পানি মাইরা… হ্যাবলা কেবলা কুকুরটা… ক্যাউ.. ক্যাউ করতে করেত দলের ভিতর চলে গেল, সান্ডা লিডার জিজ্ঞেস করল, কিরে পাইলি কিছু? হ্যাবলা কেবলা বুঝলো এইখানে মানইজ্জতের ব্যাপর সে বলল, দেয় ভালই দেয়, গরম গরম পাইলাম…. তারপর কিছুক্ষন পর… আবার পাঠালো আরেকটারে… সেও গেল, বাবুচিতো বেজায় বেরসিক একজন, সে করলো কি চ্যালা কাঠ দিয়া দিল বাড়ি… আবার সেই ক্যাউ..ক্যাউ… যেহেতু সে চ্যালার বাড়ি খাইছে সে ঠিকমতো হাটতেও পারছিল না… সান্ডা লিডার জিজ্ঞেস করল, কিরে তুই কি কিছু পাইছোস? উত্তরে চ্যালার বাড়ি খাওয়াটা বলল, পাইছি মানে? দেখেন না… যা দিছে ঐটা খাওয়ার পর আমি হাইটাই আসতে পারি না! এবার সন্ডা ভাবলো… তাইলে বোধহয় আমার যাওয়া দরকার… সেও গেল… বাবুচি ব্যাটারা আসলেই খুব বেরসিক… এইবারতো তাদের সত্যিই খুব রাগ হইছে… ব্যাটা তোদের এতো করে সরায়া দেই তবু বার বার আসতেছোস…. করলো কি চারদিকে ঘেড়াও দিয়া… এমন মাইর মারলো… সান্ডা লিডার খাইবো কি, জান নিয়া যাইতে পারলে বাচে…. যাইহোক.. যেহেতু কুত্তা পিটানো বাবুচিদের কাজ না, তাই তারা একসময় নিবৃত হইলো এবং রান্নার কাজে ব্যস্ত হলো…. আচ্ছা সান্ডা লিডার ঐ দলের ভিতর গিয়া কি বলছে, জানতে মন চায়? তাইলে শুনেন দলের অন্যান্য নেড়ীর কাছে গেলে তারে ওরা জিগায়, কি ওস্তাদ খাওয়াইছে কিছু? সান্ডা উত্তরে বললো, আরে আমারে তো আইতেই দিতে চায় না! ধইরা ধইরা খালি খাওয়ায়, বহুত কষ্টে ছুইটা আইলাম….

কিছু বুঝলেন? বন্ধুরা….. আমার এই গল্পের মোড়াল কি? মোড়াল হলো… এইখানে জেহবত হচ্ছে শাহবাগের সমাবেশ, বাবুচি হচ্ছে তরুন প্রজন্ম যারা ভাল কিছু আপনাদের উপহার দিবে, রান্না হচ্ছে আমাদের কর্মসূচী, দাওয়াতী হচ্ছে দেশের আপামর জনগন… নেড়ী কুকুর হচ্ছে ভাই বুইঝালন… তারা যাচ্ছে ঠিকই ওই সমাবেশে কিন্তু, ভাবমাইরা চলছে, করতে পারছে না কিছুই। শেষ কথা যারা বলে বেরাচ্ছেন এই সামাবেশের সব সুফল চলে যাবে অন্য কোথাও, কিংবা আন্দোলনের ফলাফল পলিটিক্যালাইজ হচ্ছে তাদের বলছি, আসলেই কিছু করতে পারছে না তারা… তাদের অবস্থা ঔই নেড়ী কুত্তাদের মতো হবে, চেষ্টা হচ্ছে না, এই কথা আমি বলছি না, তবে আমাদের তারুণ্যভরা সমাবেশের উদ্যোগক্তারা এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করছেন, এবং বাংলার জনগনকে ভালকিছু উপহার দিবেন এইজন্যই তাদের সংগ্রাম! অতএব, আস্থা রাখেন সমাবেশকারীদের উপর… বিজয় নিয়েই আমরা ঘরে ফিরবো ইনশাল্লাহ! জয় বাংলা…

বি:দ্র: এই গল্পটি আমি অনেকদিন আগে বাকী বিল্লাহর কাছ থেকে শুনেছিলাম, তখন তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি, আমি সত্যিই গর্বিত, বাকীভাইর পিছনে আমি কতশত মিছিলে অংশ নিছি তার ইয়াত্তা নাই… ধণ্যবাদ বাকীভাই… বাংলা ব্লগের প্রথম জেনারেশনের অন্যতম ব্লগার তিনি, বাকীবিল্লাহসহ, আসিফ মহিউদ্দীন, পারভেজ আলম, শরৎ ফেরদৌস বাংলাদেশকে টেনে এনেছেন রাজধানীর শাহবাগে। তাদের সবাইকে আমার সালাম.. জয় বাংলা